রৌগুনে জান্নাতের ছোট গল্প ‘ ২০ বছর পর দেখা ‘


– হ্যালো! কেমন আছো? কতদিন পর দেখলাম তোমায়।
– ওহ তুমি। হুম ভালো আছি।তুমি?
– আমি আছি ভালো মন্দ মিলিয়ে। তোমার স্বামী সন্তান কেমন আছে?
– হাহাহা! কিসের স্বামী সন্তান? এর তো কথা ছিলো না।
– ওহ হুম।
– হে। তোমার বউ কেমন আছে? দেখতে কি এখনো আমার থেকে সুন্দর আছে?
– বউ আছে ভালোই। সুন্দর কি না জানি না।তবে তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সব থেকে সেরা সুন্দরী।
-হাহাহা! ২০ বছর আগে কিন্তু তোমার কথা এমন ছিলো না।
– হুম ঐদিন আমি আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুলটা করেছিলাম।তার মাশুল আজও টানছি।
– কেন গো, তোমার তো পাথরের মত শক্ত মানুষ অনেক পছন্দ। আমার মত আবেগী মানুষ পছন্দ না।এটাই তো বলছিলে সেদিন।
– ভুল ভুল ভুল করছিলাম সেদিন।সেদিন আমার তোমার হাতটা ছাড়া উচিত হয় নি।
– কেন? কেন? সেদিন তো তুমি অনেক খুশি ছিলে।তোমার হাসি মাখা মুখ এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে।
-সেদিন আমি ভুল করছিলাম আর তার জন্য আজ আমার এই অবস্থা।
– আচ্ছা বাদ দাও ছেলে মেয়ে কয় জন?
-১ ছেলে ১ মেয়ে।
– ও। তারা কে কি করে? মেয়ের বিয়ে দিছো?
– হুম মেয়ের বিয়ে দিছি ৬ মাস আগে। আর ছেলের লেখাপড়া হয় নি। সেও বিয়ে করে আনছে।
-আনছে মানে?ভাগাইয়া?
– হুম।
– হাহাহাহা। যাক যে কষ্টটা তুমি আমায় দিছিলে তা তোমার ছেলে অন্যকাউকে দেয় নি।
– হুম! এটাই তো আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল।
– আচ্ছা বাদ দাও। তোমার বউয়ের কথা বলো।সে তোমাকে অনেক ভালোবাসে তাই না? আমার থেকেও বেশি?
– হাহাহা। ভালোবাসা তাই না? ভালোবাসা????
– কেন কি হইছে?
– তুমি আমার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর ভালোবাসা নামটাই আমি ভুলে গেছি।
– কেন তুমি তো সেদিন অনেক বড় বড় করে বলছিলা তোমার বউয়ের ভালোবাসার কথা।
– ভুল ভুল ভুল করছিলাম আমি। মরিচিকার পিছনে দৌড়াইছিলাম।
– কেন কি হইছে বলত?
– কিছু হয় নি। সব কথা বলা যায় না।
– আমাকেও না?
– তোমাকে তো জীবনের সব বলা যায়।আমার জিবনের সব থেকে কাছের মানুষ তুমি।
– হাহাহা! হাসাইলা।
– কেন?
-২০ বছর আগের কথাগুলো মনে পরে তোমার? কতটা অপমান,কতটা অবহেলা, কতটা কষ্ট দিতা তুমি আমায়?
– হুম এজন্যই তো আল্লাহ আমায় তার শাস্তি দিতেছে।
– আচ্ছা তোমার বউয়ের কি পরক্রিয়া আছে?
– হুম, আচ্ছা বাদ দাও। তোমার কথা বলো?
– হুম বল কি জানতে চাও?
– বিয়ে করোনি কেন?
– বিয়ে করার কথা তো ছিলো না আমার।তাছাড়া কাউকে কথা দিছিলাম অপেক্ষা করবো। কিন্তু সে কথা রাখে নি। আমি রাখছি।
– তুমি এখনো সেই কথাগুলো মনে রেখেছো?
– হুম। আমার জিবনে তো ঐটুকুই আছে।
– আচ্ছা আমরা আবার সব শুরু করতে পারি না নতুন করে?
– এখন কি তা সম্ভব?
– কেন সম্ভব নয়?
– তোমার বউ আছে,সন্তান আছে। আমি তো তোমাকে তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারি না।
– তারা তো থেকেও নাই।তাদের আমার প্রয়োজন নেই। আগেও ছিলো না।তাদের প্রয়োজন শুধু টাকার।
– তবু এটা আর হয় না।
– কেন? কেন হয় না? প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিও না।
– হাহাহাহা!২০ বছর আগের কথাগুলো আজ অনেক মনে পরছে।
– তুমি আজ আমায় প্রত্তাক্ষান করে প্রতিশোধ নিতাছো?
– না গো। তোমার বউ বাচ্চা থাকলে তোমার বলতে হতো না।আমি এতো দিন ধরে তোমার জন্যই অপেক্ষা করে আছি। কিন্তু আমি অন্য কারও সংসার ভাঙ্গতে পারবো না।
– এটাই তোমার শেষ কথা? আমার কষ্টটা তোমার কাছে কিছু না?
– তুমি আমার জিবনের সব।তোমার সুখের জন্য আমি সব করতে পারি।নিজের জিবনটাও দিতে পারি। কিন্তু অন্যের সংসার ভাঙ্গতে পারবো না।
– হুম বুঝতে পারছি আমার পাপের শাস্তি আমাকেই ভোগ করতে হবে।
– হয়তোবা।
– আচ্ছা তো আজ যাই।
– হুম, বিদায়।
– কাঁদছো কেন?
– কই না তো।
– চোখে যে পানি।
– এমনি।
– এমনি কেউ কাদে?
– জানি না।
– তুমি ঠিক আগের মতোই আছো। এমনি জানি না!!
– তুমি অনেক বদলে গেছো।
– কেমন?
– এই যে এই চাওয়াটা ২০ বছর আগে তোমার ছিলো না।থাকলে আমরা পৃথিবীর সব থেকে সুখি মানুষ হইতাম।
– হুম। ভুল করছি আমি। আমার সেদিন তোমার হাতটা ছাড়া উচিত হয় নি। আচ্ছা বাদ দাও তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
– তোমার জন্য আমার ২০ বছর আগেও দেরি হয় নি আর এখনো হবে না। আমার জিবনের প্রতিটা মূহুর্ত তোমার জন্য। আচ্ছা যাও।
– হুম।বিদায়।

You may also like...

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।